খুঁজুন
advertisement
advertisement
বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ২০ কার্তিক, ১৪৩৩

সবার আগে যা করবেন | শিশু নিখোঁজ হলে

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ৫:৩৮ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
সবার আগে যা করবেন | শিশু নিখোঁজ হলে

প্রতীকী ছবি



যোগফল জীবনে :

সন্তান নিখোঁজ হয়েছে বোঝার পর সবচেয়ে জরুরি হলো ওই চরম সংকটময় সময়েও যথাসম্ভব শান্ত থাকা। কেননা, শিশু নিখোঁজ হওয়ার প্রথম এক ঘণ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

৩ সেপ্টেম্বর বিকেলের ঘটনা। আমার বাসার সহকারীর আসল নাম এখানে উল্লেখ করছি না। ধরা যাক, তাঁর নাম রাবু আপা। তিনি আমার সাড়ে তিন বছরের মেয়ের দেখাশোনাও করেন, তাঁকে নিচে পাঠালাম একটা জিনিস কিনতে। মেয়ে জেদ ধরল, সে-ও যাবে। তার উদ্দেশ্য গিয়ে ‘আন্টিকে ভুলিয়ে ভালিয়ে’ চিপস বা চকলেট কেনা। বাসার নিচেই মুদিদোকান। বললাম, ‘আচ্ছা যাও।’
২০–২৫ মিনিট পর ফিরে এসে রাবু আপা যা বললেন, শুনে আমি ভয়ে কাঠ। তিনি বললেন, ‘আপা, আমি বাবুকে পাশে রেখে বাজারসদাই বুঝে নিতেছি; হঠাৎ খেয়াল হইল বাবু নাই। আশপাশে খোঁজ করতেই দেখি, গলির মাথার দিকে এক মহিলা বাবুর হাত ধইরা তড়িঘড়ি কইরা হাঁইটা যাইতাছে। আমি দৌড়ায় গেলাম মহিলার কাছে। জিগাইলাম, এই বাচ্চা কেন নিতেছ? সে উল্টা আমারে জিগায়, “তোমার বাচ্চা?” তখন তাড়াতাড়ি বাবুরে নিয়ে চলে আসলাম।’
তাৎক্ষণিকভাবে রাবু আপাকে নিয়ে নিচে নামলাম ওই নারীর খোঁজে, কিন্তু খুঁজে পেলাম মা। এই রাস্তায় সিসি ক্যামেরা না থাকায় ওই নারীকে খুঁজে বের করার আর কোনো উপায় ছিল না।
আমার মেয়ে যে রাবু আপার পাশে নেই, এটা বুঝতে তাঁর আরেকটু দেরি হলেই কী যে হতো, জানি না! এরপর কখনো আমার মেয়েকে ওর বাবা ছাড়া আর কারও সঙ্গে বাইরে পাঠানোর সাহস করতে পারব কি না, জানি না।
তবে এই ঘটনার পর শিশু নিখোঁজ হলে তাৎক্ষণিকভাবে করণীয় সম্পর্কে খোঁজখবর নিতে শুরু করলাম। তাতে যেসব বিষয় জানলাম, তা আপনাদের সঙ্গে ভাগাভাগি করছি।
★শিশু হারিয়ে গেলে প্রথম এক ঘণ্টায় কী করবেন:
সন্তান নিখোঁজ হয়েছে বোঝার পর সবচেয়ে জরুরি হলো ওই চরম সংকটময় সময়েও যথাসম্ভব শান্ত থাকা। কেননা, শিশু নিখোঁজ হওয়ার প্রথম এক ঘণ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটাকে বলা হয় ‘গোল্ডেন আওয়ার’। তাই প্রথম ঘণ্টার প্রতিটি সেকেন্ড গুরুত্বপূর্ণ। কেননা, সেই সময়ের মধ্যে আপনার সন্তান ওই এলাকায় থাকার সম্ভাবনা অনেক বেশি। আতঙ্কিত হয়ে সময় নষ্ট না করে দ্রুত ও পরিকল্পিতভাবে কয়েকটি পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
১. দ্রুত আশপাশে খুঁজুন:
শিশুকে সর্বশেষ কোথায়, কখন এবং কার সঙ্গে দেখা গেছে, তা নিশ্চিত করুন। বাড়ি, সিঁড়ি, ছাদ, গলি, দোকান, খেলার জায়গা, স্কুল, পার্ক, বাসস্ট্যান্ডসহ আশপাশের সম্ভাব্য স্থানগুলোয় দ্রুত খোঁজ করুন। একা না গিয়ে পরিবারের সদস্য ও পরিচিতদের জায়গায় জায়গায় ভাগ করে দিন।
২. সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে জানান:
শিশু নিজে থেকেই ফিরে আসবে, এমন আশায় অপেক্ষা করবেন না। দ্রুত নিকটস্থ থানায় যোগাযোগ করুন। জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল করুন। নিখোঁজ হওয়ার পর যত দ্রুত পুলিশকে জানানো যায়, তত দ্রুত অনুসন্ধান শুরু করার সুযোগ বাড়ে। আর সেই সঙ্গে বাড়ে সন্তানকে দ্রুত ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনাও। এ ক্ষেত্রে আশপাশের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ হতে পারে সবচেয়ে সহায়ক।

৩. প্রয়োজনীয় সাধারণ তথ্য:
শিশুর সাম্প্রতিক ছবি, নাম, বয়স, উচ্চতা, গায়ের রং, পরনের পোশাক ও জুতার বিবরণ, কোনো বিশেষ শারীরিক চিহ্ন এবং সর্বশেষ কোথায় ও কখন দেখা গেছে—এসব তথ্য পুলিশকে দিন। নিখোঁজ সংক্রান্ত অভিযোগ বা জিডিও করুন। শিশুর কাছে মুঠোফোন থাকলে ফোন করুন। ফোনের শেষ অবস্থান, কল, মেসেজ বা অন্য কোনো ডিজিটাল তথ্য থাকলে তা মুছে ফেলবেন না।
৪. ছবি প্রচার করুন, তবে সতর্কভাবে:
সাম্প্রতিক পরিষ্কার ছবি ও প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে স্থানীয় ও বিশ্বস্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের গ্রুপে শিশুর নিখোঁজের খবর ছড়িয়ে দেওয়া যেতে পারে। তবে জন্মনিবন্ধন নম্বর, পূর্ণ ঠিকানার মতো অতিরিক্ত ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ করা উচিত নয়। শিশুটি যে এলাকার ও শিশুকে সর্বশেষ যে এলাকায় দেখা গেছে, সেই এলাকার সংশ্লিষ্ট ফেসবুক বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের গ্রুপে প্রয়োজনীয় তথ্যসহ বিষয়টি শেয়ার করুন।
৫. হাসপাতাল ও পরিবহনকেন্দ্রে খোঁজ নিন:
রাস্তার মোড়, গলির মাথা মূল সড়কের যেখানে গিয়ে মিশেছে, নিকটবর্তী হাসপাতাল, ক্লিনিক, বাসস্ট্যান্ড, রেলস্টেশন ও লঞ্চঘাটেও খোঁজ করুন।

গত জানুয়ারি মাসে নিখোঁজ ও অপহৃত শিশুদের দ্রুত উদ্ধারে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) এবং অ্যাম্বার অ্যালার্ট ফর বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে ‘মুন অ্যালার্ট’ (মিসিং আর্জেন্ট নোটিফিকেশন) নামের বিশেষ সেবা চালু করেছে। ২০২৪ সালে সিলেটে অপহরণের পর নিহত শিশু মুনতাহার স্মরণে এই অ্যালার্ট সিস্টেমের নামকরণ করা হয়েছে।
দেশজুড়ে কোনো শিশু নিখোঁজ হলে সিআইডির টোল ফ্রি হটলাইন নম্বর ১৩২১৯-এ কল করে জানানো যাবে। এ ছাড়া ‘মুন অ্যালার্ট’ (munalert.org) ওয়েবসাইটেও নিখোঁজ শিশুর তথ্য রিপোর্ট করা যায়। সিআইডি জানিয়েছে, শিশু নিখোঁজ হওয়ার পরবর্তী তিন ঘণ্টাকে ‘গোল্ডেন টাইম’ বিবেচনা করে তারা তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেবে। এর পাশাপাশি দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে যেকোনো সময় জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরেও তথ্য দেওয়া যাবে।
জানুয়ারিতে সিআইডি জানিয়েছিল, এই জরুরি সতর্কবার্তা অফিশিয়াল ওয়েব পোর্টাল ও মোবাইল অ্যাপের পাশাপাশি অনলাইন ও অফলাইন সংবাদমাধ্যম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ডিজিটাল বিলবোর্ড, ব্যাংকের এটিএম বুথ, প্রয়োজন অনুযায়ী মুঠোফোনে খুদে বার্তা ও অন্য প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রচার করা হবে, যাতে সাধারণ জনগণ দ্রুত তথ্য দিয়ে উদ্ধার কার্যক্রমে সহায়তা করতে পারেন। পুরো প্রক্রিয়ায় শিশুর মর্যাদা, নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাবে।
★একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়:
৩ সেপ্টেম্বর পুলিশ সদর দপ্তর থেকে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত সারা দেশে ১৫ হাজার ৭১৭ শিশু নিখোঁজ হয়েছে। তাদের মধ্যে ২ হাজার ৩৮ জনের সন্ধান এখনো মেলেনি।
পুলিশ জানায়, ওই সময়ে নিখোঁজ ১৩ হাজার ৬৭৯ শিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে অথবা তাদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ নিখোঁজ শিশুদের প্রায় ১৩ শতাংশের সন্ধান এখনো মেলেনি।
তবে পুলিশ বলছে, নিখোঁজ মানেই অপহৃত বা পাচারের শিকার, এমন নয়। আর পুলিশ যে হিসাব দিয়েছে, সেটি মূলত নিখোঁজ সংক্রান্ত জিডির সংখ্যা। বিশেষ করে ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে পরিবারের সঙ্গে বাইরে গিয়ে পথ হারানো, পরিবারের সদস্যদের নাম-ঠিকানা বলতে না পারা বা একা বাড়ি ফেরার সময় অন্যত্র চলে যাওয়ার মতো ঘটনাও এর মধ্যে আছে।
জনগণের বিভ্রান্তি দূর করতে পুলিশ আশ্বস্ত করেছে, নিখোঁজ শিশুদের উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সার্বক্ষণিক তৎপর আছে। অবশিষ্ট শিশুদের খুঁজে বের করার চেষ্টা অব্যাহত আছে।

সূত্র: প্রথম আলো, ডেইলি স্টার ও মুন অ্যালার্ট

পীরগঞ্জে "Child Safety Net Campaign" (চাইল্ড সেফটি নেট ক্যাম্পেইন) অনুষ্ঠিত

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ৪ নভেম্বর ২০২৬, ১১:২৪ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
পীরগঞ্জে  "Child Safety Net Campaign" (চাইল্ড সেফটি নেট ক্যাম্পেইন) অনুষ্ঠিত

ছবি যোগফল প্রতিনিধি

মো. আরফান আলী | পীরগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি 

পীরগঞ্জে গুড নেইবারস বাংলাদেশ-এর উদ্যোগে ‘চাইল্ড সেফটি নেট ক্যাম্পেইন’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ৪ নভেম্বর বুধবার উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে পীরগঞ্জে শিশুদের সূরক্ষা ও অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গুড নেইবারস বাংলাদেশ, পীরগঞ্জ সিডিপির (Pirganj CDP) আয়োজনে "Child Safety Net Campaign" (চাইল্ড সেফটি নেট ক্যাম্পেইন) শীর্ষক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই বারে  প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল—"শিশুর সুরক্ষা, আমাদের অঙ্গীকার"।  

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গোলাম রাব্বানী সরদার এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য প্রদান করেণ ঠাকূরগাঁও -৩ আসনের সংসদ সদস্য জাহিদুর রহমান,  সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান জিয়াউর ইসলাম জিয়া, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা জিন্নাতারা ইয়াসমিন, প্রমুখ।

​অনুষ্ঠানে বক্তারা শিশুদের নিরাপত্তা, অধিকার এবং তাদের সুরক্ষায় সমাজের সকল স্তরের মানুষকে সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান। এ সময় স্থানীয় বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধি, আয়োজক সংস্থার কর্মকর্তা, সুধীবৃন্দ এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।

পাইকগাছায় নাশকতা, জু/য়াসহ বিভিন্ন মামলায় আটক- ১৪

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ৪ নভেম্বর ২০২৬, ১১:০৮ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
পাইকগাছায় নাশকতা, জু/য়াসহ বিভিন্ন মামলায় আটক- ১৪

ছবিতে গ্রেফতারকৃরা

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি:

খুলনার পাইকগাছায় থানা পুলিশের পৃথক অভিযানে নাশকতা, জুয়া ও অন্যান্য মামলায় মোট ১৪ জনকে আটক করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) রাতে ও বুধবার (৪ নভেম্বর) সকালে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের আটক করা হয়।

থানা সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার চাঁদখালী ইউনিয়নের গড়েরআবাদ এলাকায় অভিযান চালায় পুলিশ। এসআই নুরে আলমের নেতৃত্বে সঙ্গীয় অফিসার ফোর্স অভিযান চালিয়ে টাকার বিনিময়ে তাস খেলার সময় ছয়জনকে আটক করে। এ সময় জুয়ার টাকা ও খেলার সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।

আটক ব্যক্তিরা হলেন-মৃত আবতাপ গাজীর ছেলে রশিদ গাজী (৫৫), আবুল কাসেমের ছেলে আমিরুল (৩৮), মৃত সামাদের ছেলে সফিকুল (৬০), জব্বার গাজীর ছেলে আব্দুর রহমান, জনাব মোল্লার ছেলে খানজাহান মোল্লা (৬২) এবং জামান মোল্লার ছেলে সাইফুল (৩৫)। এ ঘটনায় পাইকগাছা থানায় জুয়া আইনে মামলা হয়েছে। মামলার নম্বর ৪/২৬।

এদিকে, মঙ্গলবার রাতে নগরশ্রীরামপুর গ্রামের আব্দুল মজিদ হাজরার ছেলে হরিঢালী ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. মুজাহিদুল হাজরা (৪৮) এবং বুধবার সকাল ১১টার দিকে গদাইপুর ইউনিয়নের রফিকুল ইসলামের ছেলে ছাত্রলীগের সদস্য ও উপজেলা আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য মো. ফারজাহান পারভেজ ওরফে রুমি (২৫)-কে নাশকতা মামলায় আটক করা হয়েছে বলে জানিয়ে পুলিশ।

অন্যদিকে, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে অভিযান চালিয়ে পরোয়ানাভুক্ত ও অন্যান্য মামলায় আরও ছয়জনকে আটক করা হয়েছে।

পাইকগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ আব্দুল আউয়াল কবির আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মাদক ও জুয়া নির্মূলে পুলিশ সুপারের কঠোর নির্দেশনা বাস্তবায়নে পাইকগাছা থানা পুলিশ সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করছে।

সিরাজগঞ্জে এসআরবি-১২ এর অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ৪ নভেম্বর ২০২৬, ১০:২৮ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
সিরাজগঞ্জে এসআরবি-১২ এর অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার

ছবিতে অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ

মনজুরুল ইসলাম ।। সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি

আত্মসমর্পণকারী চরমপন্থীদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সিরাজগঞ্জ ও পাবনা জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ১০৩টি দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্রসহ বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটেলিয়ন (এসআরবি-১২)। উদ্ধার করা সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে ১ হাজার ১৩৬ রাউন্ড তাজা গুলি, ১৫টি ম্যাগাজিন, ৯৫টি দেশীয় অস্ত্র ও ৮টি ওয়াকিটকি সেট। তিন জেলার ৬৫ জন চরমপন্থী সদস্যের আত্মসমর্পণের পর তাঁদের দেওয়া তথ্য এবং নিজস্ব গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়।

বুধবার (৪ নভেম্বর) সকালে সিরাজগঞ্জের সলঙ্গায় এসআরবি-১২-এর সদর দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান বাহিনীর অধিনায়ক অতিরিক্ত আইজিপি আতিকুর রহমান মিয়া।

তিনি জানান, গত রোববার (১ নভেম্বর) এসআরবি-১২-এর পৃষ্ঠপোষকতায় সিরাজগঞ্জ, পাবনা ও রাজবাড়ী জেলার ৬৫ জন চরমপন্থী সদস্য আত্মসমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার অঙ্গীকার করেন। তাঁদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য ও বাহিনীর নিজস্ব গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী সময়ে অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান চালানো হয়।
এসআরবি-১২ অধিনায়ক বলেন, সিরাজগঞ্জের তাড়াশ, উল্লাপাড়া ও সলঙ্গা এবং পাবনা জেলার সাঁথিয়া ও আতাইকুলা থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে এসব অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে।

উদ্ধার করা ১০৩টি দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্রের পাশাপাশি ১ হাজার ১৩৬ রাউন্ড তাজা গুলি, ১৫টি ম্যাগাজিন, ৯৫টি দেশীয় অস্ত্র এবং ৮টি ওয়াকিটকি সেট উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এসব আগ্নেয়াস্ত্রের ধরন, উৎস ও সংশ্লিষ্ট অপরাধী চক্র সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়নি।
আত্মসমর্পণে নতুন প্রত্যাশা।

এর আগে ১ নভেম্বর দুপুরে এসআরবি-১২-এর সদর দপ্তরে ‘নতুন পথে প্রত্যাবর্তন—চরমপন্থি সর্বহারা সদস্যদের আত্মসমর্পণ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে তিন জেলার ৬৫ জন চরমপন্থী সদস্য আত্মসমর্পণ করেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মিজ্ ফারজানা শারমিন।
আত্মসমর্পণকারীরা চরমপন্থী কর্মকাণ্ড থেকে সরে এসে স্বাভাবিক ও শান্তিপূর্ণ জীবনে ফেরার অঙ্গীকার করেন। তাঁদের পুনর্বাসন ও সমাজের মূলধারায় ফিরিয়ে আনার উদ্যোগও এ কর্মসূচির অন্যতম লক্ষ্য।

দীর্ঘদিন ধরে চরমপন্থী তৎপরতার ইতিহাস রয়েছে এমন জনপদে অবৈধ অস্ত্রের বিস্তার রোধ ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। আত্মসমর্পণকারীদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র উদ্ধারের এ অভিযান ওই অঞ্চলে অবৈধ অস্ত্রের সন্ধান ও অপরাধী নেটওয়ার্ক শনাক্তের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে চরমপন্থীদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের সমন্বিত উদ্যোগ অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা জোরদার করেছে।